দেশনিউজপলিটিক্স

Repealing Farm Laws: বুধবারই বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের অনুমোদন দিতে পারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা

গত ১৯ নভেম্বর গুরু নানকের জন্মদিনে শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় আকস্মিকভাবে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রীর মুখে এত বড় ঘোষণার পরেও কৃষকদের মন গলেনি, সংসদে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন ২০২০ বাতিলের প্রক্রিয়া যতক্ষ্ণ সম্পন্ন না হবে ততক্ষব অবধি তারা কিছুতেই পিছু হঠবেননা তা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন কৃষকরা।

এবারে কৃষিদের প্রাণদায়ী কৃষি আইন প্রত্যাহারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের আগে ২৪ নভেম্বর কৃষি আইন প্রত্যাহারের বিষয়ে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। জানা যাচ্ছে, আগামী বুধবার বসতে চলেছে মন্ত্রিসভা এই বৈঠক, আর এই বৈঠকেই কৃষি আইন প্রত্যাহারের বিষয়ে আরও একধাপ এগোতে পারে মোদী সরকার।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তিনটি কৃষি আইন পাশ করিয়ে নিয়েছিল বিজেপি সরকার। দরিদ্র কৃষকরা কোনোভাবে এই আইন মানতে পারেনি। এই আইন পাশের বিরোধিতা করে দীর্ঘ এক বছর ধরে দিল্লি সীমান্তে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন কৃষকরা। এরপর লাগাতার কৃষক আন্দোলন চলেছে দেশে, প্রায় ৬০০ কৃষক শহীদ হয়েছেন এই আন্দোলনে। লখিমপুর খেরির মতো সহিংসতার ঘটনা থেকে শুরু করে একাধিক হরতাল কৃষক আন্দোলন বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী। রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় কৃষক আন্দোলন এটি।

এক বছর ব্যাপি দীর্ঘ আন্দোলনের পর কৃষকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই বুধবার কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন সমগ্র দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, “প্রত্যেক দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি। আমরা কৃষকদের উন্নতির কথা ভেবেই এই আইন নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু আমরা হয়ত কৃষকদের বোঝাতে পারিনি। আমাদেরই হয়ত কোনও গাফিলতি ছিল যে আমরা কৃষকদের এই আইন তিনটির যথার্থতা বোঝা অক্ষম হয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণ অনুসারে, ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের সময় তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হবে। মোদীর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিল কৃষকদের সংগঠন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। কিন্তু কৃষকদের একটি অংশ তাদের আরও কিছু দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেব। তাদের তরফে প্রকাশিত এক প্রেস বিবৃতি অনুযায়ী বলা হয়েছিল, “শুধুমাত্র এই তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারই নয়, কৃষকদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনও রয়েছে। কৃষকদের দ্বারা ফলিত ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারে কাছে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দাবি করেছে সেই নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক সরকার। আমরা বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছিলাম। সেই বিষয়ে সরকারে পদক্ষেপ প্রয়োজন।” কৃষকদের প্রধান দাবি পূরণের কথা ঘোষণা করলেও বাকি দাবি গুলি করা হয়েছে তা এখনও মোদী সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।

Related Articles

Back to top button