নিউজপলিটিক্সরাজ্য

পৃথক জঙ্গলমহল রাজ্য চাই, জন বারলার পরে সৌমিত্রের অদ্ভুত দাবিতে চাপে রাজ্য বিজেপি

বিজেপির শীর্ষ নেতাদের না জানিয়েই বেফাঁস মন্তব্য করে দিচ্ছেন সাংসদরা, যার ফলে বিতর্কে বিজেপি



পৃথক জঙ্গলমহল রাজ্য চাই, এবারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। সৌমিত্র বললেন, ” আমার দাবিটা দলের নয়। আমি যে আলাদা রাজ্য চাইছি তেমনটাও নয়, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বাংলার কথা শোনেন, অন্তত তৃণমূল তো তাই বলে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ ধারণায় বিশ্বাসী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা বাংলা করে পশ্চিমবঙ্গ কে বাংলা করার দাবি জানিয়েছেন। আমি এই জিনিসটার বিরোধিতা করছি।”

কিছুদিন আগে থেকে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জণ বারলা বারংবার পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি জানিয়ে বাংলার রাজনীতিকে একেবারে সরগরম করে দিয়েছেন। তার মধ্যেই, সৌমিত্র খাঁ যেভাবে এবারের রাঢ়বঙ্গ কে আলাদা করার দাবি জানালেন তাতে আরো বিতর্কে জড়িয়ে সে ভারতীয় জনতা পার্টি। উত্তরবঙ্গের পর এবার বাঁকুড়া পুরুলিয়া জঙ্গলমহল নিয়ে একটি পৃথক রাজ্য গঠন করার দাবি জানিয়েছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলছেন, “মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বহিরাগত শব্দ এনেছেন, তাতে এই দাবি উঠবেই।”

২১ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতারা বারংবার কেন্দ্র থেকে এ রাজ্যে প্রচার করতে এসেছেন। তাদের প্রচার পর্বকে বারংবার কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল শিবির। অন্যদিকে তাদেরকে বহিরাগত বলে কটাক্ষ করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। এবারে সৌমিত্র খাঁ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। সৌমিত্র বলেছেন, ” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে ২৩ জন মন্ত্রী রয়েছেন। আমাদের এলাকার মানুষ বঞ্চিত। রাঢ়বঙ্গ যুবকদের চাকরি নেই। আমাদের এলাকার সম্প্রতি রাজ্যের কোষাগারে যাচ্ছে কিন্তু আমরা কিছু পাচ্ছিনা। এরকম চলতে থাকলে আগামী দিনে জঙ্গলমহল থেকে পৃথক জঙ্গলমহল করার দাবি উঠবে।”

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ” মমতার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শখ। তাই বাংলা বলে পশ্চিমবঙ্গ কে বাংলা করার চেষ্টা করছেন মমতা। আমরা রাঢ়বঙ্গ কে পৃথক রাজ্য করার দাবি জানাবো।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গ অবহেলিত এবং বঞ্চিত এই অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর কাছে পৃথক উত্তরবঙ্গ করার দাবি জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জণ বারলা। তার এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই দ্বিধাবিভক্ত ভারতীয় জনতা পার্টি। কিছুদিন আগে পর্যন্ত জণ বারলার এই দাবির ব্যাপারে জানতেনই না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সমস্ত বিষয়টি জানার পরে বিজেপির পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণরূপে খারিজ করা হয়েছে। তার মধ্যে আবার সৌমিত্র খাঁ অদ্ভুত একটি দাবি তুললেন রাঢ়বঙ্গ কে পৃথক করার। তাই বর্তমানে রাজ্য বিজেপির অন্দরে হয়তো একটাই কথা চলছে, “একা জনে রক্ষে নেই সৌমিত্র দোসর।”

Related Articles

Back to top button