টলিউডবাংলা সিরিয়ালবিনোদন

গদাই ঠাকুরের সঙ্গে রানী রাসমণি, তাজপুর ভ্রমণের ছবি ঝড়ের গতিতে ভাইরাল

জি বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’তে শ্রীরামকৃষ্ণের ভূমিকায় অভিনয় করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন সৌরভ সাহা (sourav saha)। শ্রীরামকৃষ্ণের আপনভোলা চরিত্র নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সৌরভ। শুটিং স্পটে থাকাকালীন শ্রীরামকৃষ্ণবেশী সৌরভ অভিনেতা গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের আইবুড়ো ভাতের দিন তাঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন। সেই ছবিটি নেটদুনিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয় ‘শ্রীরামকৃষ্ণের আশীর্বাদ’ নামে। এই মুহূর্তে ধারাবাহিকে শ্রীরামকৃষ্ণ গদাধরের জীবনে এসেছেন তাঁর সহধর্মিণী সারদা দেবী। সারদা দেবীকে ফুলের গয়না পরিয়ে মাতৃজ্ঞানে পূজো করেন গদাধর। গদাধর ও সারদামণির সম্পর্কের রসায়ন বাড়িয়েছে ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’-র টিআরপি। ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’ কিছুদিন আগেই পূর্ণ করেছে তার এক হাজার পর্বের সফর। অপরদিকে সৌরভের রাজনৈতিক পোস্টের কারণে উত্তাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। সেই পোস্টে সৌরভ নেটিজেনদের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন রেখেছিলেন, রাজনীতি বা সমাজে নেটিজেনদের পছন্দের মানুষ একজন শিল্পী, একজন খেলোয়াড় না কোনো রংবাজ মস্তান! সৌরভের এই পোস্ট ঘিরেই এখন নেটদুনিয়ার তরজা তুঙ্গে। তার উপর কিছুদিন আগেই সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সৌরভ জানিয়েছেন, উপর মহল থেকে তাঁর ডাক এসেছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, সৌরভ হয়তো ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। বর্তমানে টলিউড দুই শিবিরে বিভক্ত। কেউ কাঁধে তুলে নিয়েছেন গেরুয়া পতাকা তো কেউ যোগ দিচ্ছেন জোড়াফুল শিবিরে। এবার সৌরভও উস্কে দিলেন বিতর্ক। অনেকে আবার বলছেন, শ্রীরামকৃষ্ণের মুখে রাজনীতির বাণী গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তাঁরা এটা ভুলে যাচ্ছেন দিনের শেষে সৌরভ একজন ব্যক্তি যাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক স্বাধীনতা রয়েছে।

সৌরভ বরাবর লো প্রোফাইলে থাকতে পছন্দ করেন। তিনি মনে করেন, অভিনয় তাঁর পেশা। একজন অভিনেতা হিসাবে তিনি তাঁর কাজ করে চলেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য গদাধর নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। প্রায় রোজই তাঁর শুটিং থাকে। শুটিংয়ের ফাঁকে একটু সময় বের করে সৌরভ, তাঁর স্ত্রী সুস্মিতা (susmita) এবং তাঁদের একমাত্র পুত্রসন্তানকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন মংপুতে। মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর(Rabindranath Tagore)-এর স্মৃতিবিজড়িত ‘টেগোর হাউস’ দেখতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেই ছবি সৌরভ ইন্সটাগ্রামে শেয়ার করতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। সম্প্রতি সৌরভের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জল্পনার মধ্যেই তিনি তাঁর ফ্যামিলি ট্রিপের আরও কিছু ছবি শেয়ার করলেন ইন্সটাগ্রামে। ছবিগুলি লামাহাট্টা ইকো পার্কে তোলা। ছবিগুলিতে সৌরভ ও সুস্মিতা দুজনেই পরেছেন হলুদ রঙের জ্যাকেট এবং সানগ্লাস। তবে তাঁদের একরত্তি ছেলের পরনে রয়েছে কালো রঙের জ্যাকেট।

আরো একবার সৌরভ শুটিংয়ের ফাঁকে একটু অবসর পেয়েই বেরিয়ে পড়েছেন দীঘা-তাজপুরের উদ্দেশ্যে। যথারীতি তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী সুস্মিতা এবং তাঁদের পুত্র। প্রকৃতপক্ষে সৌরভ ধীরে ধীরে নিজের লো-প্রোফাইলের খোলস ছেড়ে বেরোতে চাইছেন। কারণ শ্রীরামকৃষ্ণের চরিত্রের মতো হাইপ এর আগে সৌরভ পাননি। এই মুহূর্তে শ্রীরামকৃষ্ণের অভিনয়ের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’-র ভিত। ফলে সৌরভ রাজনৈতিক পোস্ট, ফ্যামিলি টাইম কিছুই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে বাকি রাখছেন না। তাজপুরের দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি ছুঁয়ে যাওয়া বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে সৌরভ ও সুস্মিতার রোম‍্যান্টিক ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবির সৌরভকে মেলানো যাচ্ছে না পর্দার শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে। মাথায় ব্যান্দানা, চোখে সানগ্লাস, প্রিন্টেড বারমুডা ও টি-শার্টে সৌরভ পুরো ‘কুল গাই’। অপরদিকে সুস্মিতা পরেছেন গোলাপি রঙের ড্রেস ও চোখে সানগ্লাস। তবে সৌরভ ও সুস্মিতার ছেলের কিন্তু ক্যামেরার দিকে মন নেই। সে তখন বালি নিয়ে খেলা করতে ব্যস্ত।

কিন্তু এটা কারও জানা ছিল না যে, রানীমা তাঁর মন্দিরের পূজারী গদাই ঠাকুরকে কখনও চোখের আড়াল করতে পারেন না। তাই গদাই ঠাকুরের পিছন পিছন নাতি ভূপালচন্দ্রকে নিয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন তাজপুর। সৌরভের সঙ্গে তাজপুরের সি-বিচে একই ফ্রেমে ধরা দিলেন দিতিপ্রিয়া (Ditipriya Roy) ও বিশ্ববসু (Viswabasu)। তবে অবশ্যই রানী রাসমণির পোশাকে নয়, দিতিপ্রিয়া মাত করলেন স্ট্রাইপড ট্রাউজার ও টপে। বিশ্ববসুও কেতা মেরেছেন চোখে সানগ্লাস পরে পোজ দিয়ে। দিতিপ্রিয়া ও বিশ্ববসু তাজপুর ট্রিপের ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। তবে কোনো ছবিতে গদাই ঠাকুরের মুখে কিন্তু হাসি নেই। ইস, স্ত্রীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ মিস হয়ে গেল যে! কি আর করা যাবে, রানীমার হুকুম বলে কথা! রক্কে করো রগুবীর!

Related Articles

Back to top button