কলকাতানিউজপলিটিক্স

বিজেপির নো এন্ট্রি বোর্ড, দলে নিলো না তৃণমূল সাংসদকে



রাজীব ঘোষ : লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে নেতা কর্মীরা দলে দলে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে শুরু করেছিলেন। রাজ‍্যের বেশ কিছু তৃণমূল বিধায়ক, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্য, সমিতির সভাপতি, সদস্য থেকে শুরু করে নেতা কর্মীরা বিজেপিতে যোগদান করলেও অনেকেই পরে আবার সেই তৃণমূল কংগ্রেসেই ফিরে গিয়েছেন। বিজেপি তাদের দলের মধ্যে ধরে রাখতে পারে নি।

লোকসভা ভোটের পর রাজ‍্যের বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয় সাত দফায় তৃণমূল ভাঙার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু দেখা গিয়েছে, নির্বাচনে বিজেপির উত্থানের পর যারা তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন, সেই সমস্ত নেতাদের জনসমর্থন কতখানি রয়েছে, সেই বিষয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তৃণমূল থেকে এমন অনেক নেতাই বিজেপিতে যোগদান করেছেন যাদের উপর মানুষের যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। বীরভূমের তৃণমূল নেতা মনিরুল ইসলামের মতো মুখকে দলে আনার পর বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। এতে রাজ‍্য বিজেপির মুখ পুড়েছে।

বিজেপির নেতৃত্ব সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। বিজেপির অন্দরেই প্রশ্ন ওঠে, দাগীদের বিজেপিতে নেওয়ার পর মানুষ বলতে শুরু করেছে, তৃণমূল কংগ্রেসকে তাহলে সরিয়ে লাভ কী?সেই একই মুখ তো বিজেপিতে। তাই রাজ‍্য বিজেপি এবার থেকে যথেষ্ট সতর্ক হয়ে চলতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়ে একাধিক নেতাকে ফোন করেছেন এক তৃণমূল সাংসদ। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে চাইছেন এক আলোচিত অধ‍্যাপিকাও। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন, এদের তেমন কোনো জনসমর্থন নেই। ফলে এদের দলে নিয়ে কী লাভ? রাজ‍্য বিজেপির নেতাদের মতে, এর থেকে যে নেতাদের জনসমর্থন রয়েছে তাদের দলে আনলে তাদের অনুগামীরা আসবেন। সব‍্যসাচী দত্ত, শোভন চট্টোপাধ্যায় এলে তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি তাদের অনুগামীরাও দলে আসবেন।

কিন্তু যাদের রাজনৈতিক জনভিত্তিই নেই, তাদের নিয়ে বোঝা বাড়ানোর কী দরকার? তাই তৃণমূল কংগ্রেসের ওই মহিলা সাংসদ ও এক অধ‍্যাপিকা বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলেও গেরুয়া শিবির তাদের উদ্দেশ্যে নো এন্ট্রি বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়ে রাজ‍্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, তৃণমূল ও অন‍্যান‍্য দল ছেড়ে অনেকেই বিজেপিতে আসতে চাইছেন। অনেকে আসবেন। তবে কাকে নিলে দলের লাভ হবে, সেটা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের মতো বিজেপি যে কাউকে দলে নিতে আগ্রহী নয়। ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বহু নেতা কর্মীদের দলে নিয়েছিল। কোনো বাছবিচার না করেই তারা তাদের দলে জায়গা দিয়েছিল। কিন্তু বিজেপি এই বিষয়ে তাদের সাংগঠনিক নিয়ম মেনে চলতে চাইছে। দলের পক্ষে ভালো হবে, এরকম নেতা কর্মীদের নিতে চাইছে বিজেপি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button