বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে (Baishali Dalmiya) বহিষ্কার করল রাজ্যের শাসক শিবির। দল বিরোধী কাজের অভিযোগে ঘাস ফুল শিবিরের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তাকে বহিষ্কার করেছে। অনেক দিন ধরেই প্রকাশ্যে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরও সংবাদমাধ্যমে রাজীবের সমর্থনে সরব হয়েছিলেন বিধায়ক। তার পরই তার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ করা হল। তিনি বর্তমানে দলহীন বিধায়ক।
বৃহস্পতিবারই বনমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তা দুপুরে সংবাদমাধ্যমে রাজীবের সমর্থনে মুখ খুলতে দেখা গেল বৈশালীকে। তার বক্তব্য,”রাজীবের পদত্যাগে দলের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। শুধু দলেরই নয়, এটা সাধারণ মানুষেরই ক্ষতি। এমন এক জন দায়িত্ববান মন্ত্রীর ইস্তফা দলের জন্য সত্যিই দুশ্চিন্তা এবং অত্যান্ত দুঃখের বিষয়। সত্যিই কাজ করতে বিশেষ সুবিধা হচ্ছেনা। প্রত্যেকেই দলকে ভালোবাসেন। কিন্তু আত্মমর্যাদাও তো রয়েছে। যাদের আত্মসম্মান রয়েছে, তারা দিনের পর দিন এই অপমান মেনে নিতে পারবেন না।”
সব খবর মোবাইলে পেতে 👉🏻
Join Nowহাওড়া জেলায় দুই মন্ত্রী অরূপ রায় এবং রাজীবের মধ্যে বিবাদ সর্বজনবিদিত। কয়েকদিন আগেই অরূপকে সরিয়ে জেলা সভাপতি করা হয়েছিল লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে। কিন্তু পদ ছেড়েছেন তিনিও। জেলা শাসক শিবিরের সমীকরণে বৈশালীও বরাবরই রাজীবের পক্ষ নিয়ে এসেছিলেন। রাজীবের(Rajib Banerjee) পদত্যাগের পরও নাম না করে অরূপকে বাক্যবাণ ছুঁড়লেন বৈশালী। তার বক্তব্য,”সবাইকে তাচ্ছিল্য করেন উনি। মন্ত্রিত্ব একটা আলঙ্কারিক পদ। জনগণ সেটা দেয়নি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা সবাই সমান।”
এই প্রসঙ্গে হাওড়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায় (Arup Roy) বলেন, “দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের বিরুদ্ধে কথা বলে যাঁরা দলের ক্ষতি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কারও কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ থাকতেই পারে। সেটা দলের ভিতরেই বলা উচিত।”
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বৈশালী যে সমস্ত অভিযোগ তুলে ধরেছেন সেই বিষয়ে অরূপ বলেন,”আমার বিরুদ্ধে কে কি বললেন, সে বিষয়ে কিছুই যায় আসেনা আমার। আমি প্রথম দিন থেকে তৃণমূলে আছি। এদের কোনও গুরুত্ব নেই। এরা চলে যাওয়ায় দলের কোনও ক্ষতি হবেনা।”