ভাইরাল & ভিডিও

কিশোরের স্বপ্নের দৌড়, রোজ রাতে ১০ কিলোমিটার দৌড় যুবকের, ইচ্ছাশক্তি দেখেই মুগ্ধ অর্ধেক মানুষ

×
Advertisement

বছর ১৯’এর এক কিশোর ক্রমাগত দৌড়ে চলেছে নিজের স্বপ্নের পিছনে। বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই তার। ঘর-বাহির সবটাই একসাথে সামলান তিনি। রাত ১১’টার পর প্রতিদিন কাজ শেষে ১০ কিলোমিটার দৌড়ে বাড়ি ফেরেন এই যুবক। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই মুহুর্তে তার নাম জেনে গেছেন সকলেই। তার নাম প্রদীপ মেহেরা। দুদিন আগেই পরিচালক বিনোদ কাপারি প্রদীপের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যা নিমেষের মধ্যেই ভাইরাল হয়। এই মুহূর্তে দেশের বহু মানুষের কাছে পরিচিত সে।

Advertisement

দুদিন আগে নিজের গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন পরিচালক বিনোদ কাপারি। ফেরার সময় রাস্তায় এক যুবককে দৌড়ে যেতে দেখেন তিনি। তিনি নিজের গাড়ির গতি মন্থর করে ওই কিশোরকে প্রস্তাব দেন গাড়িতে উঠে আসছে এবং বলেন তিনি তাকে বাড়ি অব্দি ছেড়ে দিচ্ছেন। এর উত্তরে সে জানায় সে রোজই এভাবে দৌড়ে বাড়ি ফেরে। এটাই তার রোজকার রুটিন। তিনি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সেই কিশোর জানায় সে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায়, তাই সে রোজ রাতে কাজ শেষে দৌড়ে বাড়ি ফেরে নিজেকে সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি করার উদ্দেশ্যে।

Advertisement

কথায় কথায় সে জানায়, সকালবেলা তাড়াতাড়ি কাজে যেতে হয় তাকে তাই দৌড় অভ্যাস করার সময় পারেনা। তাই রাতেই এই অনুশীলন করে সে। সে জানায়, নয়ডার সেক্টর ১৬’তে ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করে সে। আর সেখান থেকেই নিজের বাড়ি বারোলা পর্যন্ত দৌড়ে ফেরেন তিনি। তার এই ভিডিও শেয়ার হওয়া মাত্রই রীতিমতো ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে নেটপাড়ায়। একের পর এক নেটিজেন তার ভিডিও শেয়ার করতে থাকেন। বলাই বাহুল্য, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এই ভিডিও মিলিয়ন ছুঁয়েছে।

এই ভিডিও দেখার পর থেকেই একাধিক সংবাদমাধ্যম তার সাথে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এতে রীতিমতো বিরক্ত সে। সে জানায়, এই সমস্ত কারণের জন্য সে নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছে, শান্তিতে কাজও করতে পারছেনা নিজের। এমনকি সে এও জানায়, তাকে যেন লোকজন বেশি বিরক্ত না করে। তার কথায় প্রস্তুতি নীরবে নেওয়াই ভালো। সাফল্য আসার পর প্রচারে আসাই শ্রেয়। ইতিমধ্যেই তার হাতে দৌড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে গিয়েছে।

এই ভিডিও দেখে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনেরাল সতীশ দুয়া সোমবার টুইট করে জানান, নিজের স্বপ্নের প্রতি প্রদীপের নিষ্ঠাকে সম্মান করেন তিনি। এমনকি তিনি ইতিমধ্যেই কুমাউন রেজিমেন্টের কর্নেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা কলিতার সাথে যোগাযোগ করেছেন বলেই জানিয়েছেন। এমনকি তিনি এও জানান, কুমাউন রেজিমেন্টের কর্নেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা কলিতা ঐ কিশোরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করবেন। বলাই বাহুল্য, আপাতত এই যুবকের ইচ্ছাশক্তির জোর দেখেই মুগ্ধ গোটা নেটপাড়া।

Related Articles

Back to top button