নতুন উচ্চমূল্যের নোট বাজারে আসছে—এমন দাবি গত কয়েক দিনে Facebook, X ও WhatsApp-এ দ্রুত ছড়িয়েছে। নানা গ্রুপে বার্তা ফরওয়ার্ড করা হয়েছে এবং অসংখ্য ব্যবহারকারী সেটি বিশ্বাসও করেছেন। কিন্তু অর্থ ও ব্যাংকিং মহল থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এমন কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি হিসেবে বড় মূল্যমানের নোট ছাপায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে না; বরং নিরাপদ ও স্বচ্ছ digital payment ব্যবস্থাই অগ্রাধিকার পেয়েছে।ভারতের চলতি নোটমালায় এখন 1, 2, 5, 10, 20, 50, 100, 200 ও 500 মূল্যমান প্রचलিত আছে। ২০১৬ সালের নোটবন্দির পর নতুন নকশার 500 চালু করা হয়েছিল এবং কিছু সময় 2000 নোটও ছিল, যা পরে ব্যবস্থা করে তুলে নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে 5000 নোট নিয়ে কৌতূহল দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে তা নস্যাৎ করা হয়েছে।কর্তৃপক্ষের পরিষ্কার বক্তব্য, এ মুহূর্তে 5000 নোট আনতে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি ফ্যাক্ট-চেক শাখা থেকেও ওই দাবি ‘ফেক’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, মুদ্রা বা নোট সংক্রান্ত যেকোনও বড় সিদ্ধান্ত হলে তা অফিসিয়াল ঘোষণা, প্রেস কনফারেন্স ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার ফরওয়ার্ড মেসেজকে প্রামাণ্য তথ্য হিসেবে ধরতে মানা করা হয়েছে।অর্থনীতির কাঠামোয় cashless ecosystem গড়তে গত কয়েক বছরে UPI, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ওয়ালেটের ব্যবহার বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক যুক্তি, অতিবড় মূল্যমানের নোটে কালো টাকার সঞ্চালন ও বেআইনি কাজে অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে কম-মূল্যের নোটমালা শক্তিশালী করা ও digital footprint বাড়ানোই লক্ষ্য রাখা হয়েছে।এ ধরনের গুজবে সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ অযথা নগদ মজুত করতে শুরু করলে বাজারে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। তাই যে কোনও আর্থিক সংবাদ শেয়ার বা ‘ফরওয়ার্ড’ করার আগে তা অফিসিয়াল চ্যানেলে মিলিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সঠিক তথ্যের জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, প্রেস রিলিজ, সরকারি মুখপাত্রের বিবৃতি ও ফ্যাক্ট-চেক হ্যান্ডেল অনুসরণ করা উচিত। পরিবারে বয়স্ক সদস্য বা প্রযুক্তিতে অনভ্যস্তদেরও এমন বার্তার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব বজায় রেখে ‘verify before you share’ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।