ভারতের গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে রেশন কার্ড শুধু খাদ্যশস্য পাওয়ার মাধ্যম নয়, এটি সরকারি নানা প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের অন্যতম জরুরি নথি। খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের অধীনে এই ব্যবস্থা চালিত হয় এবং সময়ে সময়ে নানা পরিবর্তন আনা হয়। ২০২৫ সালে রেশন কার্ডের জন্য কয়েকটি নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে, যা প্রত্যেক কার্ডধারীর মানা বাধ্যতামূলক।
বাধ্যতামূলক হল KYC প্রক্রিয়া
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, এখন প্রত্যেক রেশন কার্ডধারীকে KYC (Know Your Customer) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এটি অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই করা যাবে। অনলাইনে সরকারি পোর্টালে গিয়ে তথ্য আপডেট করতে হবে, আর অফলাইনে নিকটস্থ রেশন অফিস বা কমন সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে এই প্রক্রিয়া করা যাবে। এই সময়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আর্থিক অবস্থা ও আধার নম্বর যাচাই করা হবে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ জাল কার্ড রোধ করবে এবং প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের হাতেই সুবিধা পৌঁছবে।
সব খবর মোবাইলে পেতে 👉🏻
Join NowKYC-এর খরচ ও শেষ তারিখ
সরকার জানিয়েছে, KYC সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে যদি কোনও ব্যক্তি প্রাইভেট এজেন্সি বা কম্পিউটার সেন্টারের মাধ্যমে এটি করান, সেক্ষেত্রে অল্প কিছু চার্জ দিতে হতে পারে। প্রতিটি রাজ্যে আলাদা শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে KYC না করলে রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।
ব্যাংক ও মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক
২০২৫-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেশন কার্ডকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এর ফলে সরকারি ভর্তুকির টাকা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো যাবে। মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকলে সরকার সরাসরি কার্ডধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এবং এসএমএসের মাধ্যমে রেশন পাওয়ার দিন-তারিখ বা নতুন নিয়ম সম্পর্কে জানাতে পারবে।
বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়া মিলবে না রেশন
নতুন নিয়মে আরও বলা হয়েছে, রেশন তুলতে হলে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক। পরিবারের যে কোনও সদস্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে নিজের পরিচয় নিশ্চিত না করলে রেশন পাওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি খাদ্যশস্য পত্রিকা (রেশন স্লিপ) দেখানোও জরুরি। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ দুর্নীতি রোধ করবে এবং স্বচ্ছতা আনবে।
কার্ডধারীদের জন্য সরকারের পরামর্শ
সরকার সমস্ত কার্ডধারীদের দ্রুত KYC সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বর রেশন কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া জরুরি। যদি কেউ ভুল তথ্য প্রদান করেন, তবে তাঁর কার্ড বাতিল হতে পারে। কোনও সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাদ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।