টলিউডবাংলা সিরিয়ালবিনোদন

Ushasie Chakraborty: ‘গরীব রাজমিস্ত্রী বলে আমাদের মধ্যবিত্ত আত্মসম্মানে বেশি ঘা লেগেছে’, প্রশ্ন করলেন ‘জুন আন্টি’ ঊষসী

এই গল্প সিনেমা বা সিরিয়ালের গল্পকে হার মানাবে ! বাড়িতে কাজ করতে আসা দুই রাজমিস্ত্রির প্রেমে পড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বালির দুই গৃহবধূ। গত কয়েকদিন ধরেই বালির দুই গৃহবধূ, রিয়া ও অনন্যার রাজমিস্ত্রি প্রেমিকের হাত ধরে পালানোর খবর অনেকের আড্ডা দেওয়ার মুচমুচে গসিপ হয়ে উঠেছে। তবে দুই রমণীর প্রেম সফল হয়নি৷ দুজনে পালিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হলনা । কারণ আসানসোল থেকে ধরা পড়ে আপতত শ্রীঘরে রয়েছেন দুজন রাজমিস্ত্রি। তবে এই ঘটনায় হতবাক হয়েছেন জুন আন্টি ওরফে অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী। ফেসবুকের দেওয়ালে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের দিকে একপ্রকার প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। 

কয়েকদিন ধরে বালির এই দুই মহিলার সাথে রাজমিস্ত্রির সাথে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে একের পর এক ট্রোলিং শুরু হয়। অনেকেই ওই দুই মহিলাকে নিয়ে নানান কটুক্তি করতে ও ভুলছেনা। এসবের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়াতে অভিনেত্রী ঊষসী নিজের মতামত প্রকাশ করলেন। দুই রাজমিস্ত্রির এইভাবে আইনি সাজা হওয়ার ঘটনাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘কদিন ধরে দেখে শুনে মনে হচ্ছে বাড়ির বউ প্রেম করে পালিয়ে যাওয়া থেকে আর বড় কোনও ক্রাইম আশে পাশে ঘটেনি । আর আমার আইনের জ্ঞান এত তীব্র নয়, কিন্তু একটা কথা বুঝতে পারছি না দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব‍্যক্তি প্রেম করেছেন একজন তার মধ্যে বিবাহিত । তারপর তারা পারস্পরিক সম্মতিতে গৃহত্যাগ করেছেন। এটা কি কোনও শাস্তি যোগ্য অপরাধ? নাকি গরিব রাজমিস্ত্রি বলেই আমাদের মধ্যবিত্ত আত্মসম্মানে বেশি ঘা লেগেছে, বড়লোক হলে ওটা ওদের ব‍্যক্তিগত ব‍্যাপার বলে এড়িয়ে যেতাম। মানে মোদ্দা কথা আমি ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছি না । আপনারা বুঝলে জানান…’।

সাধারনত উষসীর এই পোস্ট দেখে সোশ‍্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন মানুষ সমর্থন করেছেন। জুন আন্টি বরাবর সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নেটমাধ‍্যমে মতামত প্রকাশ করেন তিনি। পাশে পান অনুরাগীদেরও। কিন্তু এ ব‍্যাপারে কিছুজনের থেকে সমর্থন পেলে ট্রোলই বেশি হয়েছেন উষসী। একজন নেটনাগরিক লিখেছেন, ‘ওই দুই মহিলা যেটা করেছেন, সেটাকে আমাদের সমাজে “পরকীয়া” বলে। নিজের স্বামীকে ঠকিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে তারা পালিয়ে গেছে। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, প্রেম করতেই পারে। কিন্তু নিজের স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ার পর করলে কেউ কিচ্ছু বলত না। আপনি হয়তো জানেন না, একটা পরকীয়া সম্পর্ক কতগুলো জীবন নষ্ট করতে পারে। বাচ্চাটার কী দোষ ছিল? তার মা অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। এটার প্রভাব তার ওপরে কীভাবে পড়তে পারে তা আপনি ভেবেছেন? আপনারা পাব্লিক ফিগার। বলার আগে একবার অন্তত ভাবুন যে কী বলছেন।’

আরেকজন নেটনাগরিক লিখেছেন, ‘কারোর কাউকে ভালোবাসা অপরাধ নয়। কিন্ত অপরাধীর মত পালানোর দরকার কি ছিল??? আইন মেনে বিবাহ বিচ্ছেদ করে গেলে তো কারোর কিছুই বলারই থাকত না।’ তবে বিষয়টা নিয়ে আর কোনো মন্তব‍্য করেননি ঊষসী। তবে অভিনেত্রীর এই পোস্ট বেশ ভালোই ভাইরাল।

Related Articles

Back to top button