দেশনিউজ

দেশের সম্পত্তিতে বিজেপির অধিকার নেই, রাহুলের সুরে সুর মিলিয়ে মোদিকে কটাক্ষ মমতার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, কেন্দ্রীয় সরকার নিজের ইচ্ছামত দেশের সমস্ত সম্পত্তি কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে বিক্রি করে দিচ্ছে



দেশের সম্পত্তিকে নিজের সম্পত্তি ভেবে ভুল করে ফেলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কার্যত এই ভাষাতেই বিজেপি কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ন্যাশনাল মনিটাইজেশন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করলেন কড়া ভাষায়। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি মন্তব্য করলেন, “এগুলো বিজেপি সম্পত্তি না, কিংবা প্রধানমন্ত্রীর নিজের সম্পত্তি না। এগুলো উনি নিজে বিক্রি করতে পারেন না। এগুলো সম্পূর্ণরূপে দেশের সম্পত্তি। এইভাবে এরকম একটি সম্পত্তি বিক্রি করা তার কোন অধিকার নেই। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তে আমি অত্যন্ত মর্মাহত।”

অনেকটা মমতা সুরে সুর মিলিয়ে রাহুল গান্ধী আজকে সকালে এরকমই মন্তব্য করলেন। রাহুল গান্ধী বললেন, “কংগ্রেস কোনভাবেই বেসরকারীকরণ এর বিরোধিতা করে না। আমরা যখন বেসরকারিকরণ করেছিলাম, সেই সময় এর পিছনে একটা লজিক ছিল। কিন্তু রেলের মত একটা স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিস এবং একটি বড় ইন্ডাস্ট্রিকে আমরা কখনও বেসরকারিকরণ করিনি। তবে সবক্ষেত্রেই একচ্ছত্র বিনিয়োগের জন্য, বর্তমানে বেসরকারিকরণ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আপনারাই জানেন বন্দর এবং বিমানবন্দরের মালিকানা কার।”

পাশাপাশি রাহুল গান্ধী আরও বলেন, গত সাত দশক ধরে ভারতের সমস্ত কিছু বিনিয়োগ করার পরে যে জিনিসটা তৈরি করা হয়েছিল, সেটা শুধুমাত্র তিন থেকে চারজন বড় মাপের ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ন্যাশনাল মনিটাইজেশন প্রসঙ্গে বক্তব্য রেখেছিলেন বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারামন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট দাবি করেছেন, ‘ভারত সরকারের বর্তমানে উচিত কৃষক গরীব এবং মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়ানো। সেটা না করে সরকারের এখন মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে কিছু ব্যবসায়ীর কাছে দেশের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেওয়া।’

যদিও রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের পাল্টা নির্মলা সীতারামন বক্তব্য রাখেন, ‘রাহুল গান্ধী কি জানেন মনিটাইজেশন এর ব্যাপারে? কংগ্রেস আমলে দেশের সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এ কারণেই কংগ্রেস ঘাড় ধাক্কা খেয়েছিল।’ যদিও নির্মলা সীতারামন আবার মনে করিয়ে দেন, ‘যাদের কাছে এই সম্পদ বিক্রি করা হচ্ছে তারা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা রেখে কাজ করবে। প্রয়োজন হলে এই চুক্তি বাতিল করে সেই সম্পত্তি ফিরিয়ে নেওয়ার আইন থাকবে।’

Related Articles

Back to top button