নিউজপলিটিক্সরাজ্য

Subrata Mukerjee: ‘সুব্রতদার মরদেহ দেখতে পারব না, এত বড় দুর্যোগ আসেনি জীবনে’, বিধ্বস্ত হয়ে পড়লেন মমতা

গতকাল কালীপুজোর দিন একটা যুগের অবসান ঘটেছে। বাংলার ডানপন্থী রাজনীতিতে একসময় যে নামগুলি একসঙ্গে নেওয়া হতো, তা হল “সোমেন প্রিয় সুব্রত”। সত্তরের দশকে নকশাল আন্দোলনের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যে কয়েকজন যুবক কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করতেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন সুব্রত বন্দোপাধ্যায়। গতকাল বিকেল থেকে আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল৷ পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন চিকিৎসকেরা৷ তবু শেষ রক্ষা হল না৷ ৭৬ বছর বয়সী বাংলার বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা, রাজ্যের মন্ত্রী অবশেষে ডাক্তারের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে
না ফেরার দেশে চলে যান।

এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ন’টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি৷ সুব্রতবাবুর সিওপিডির সমস্যা ছিল অনেক দিনের। পুজোর মধ্যে সেটাই আরও কিছুটা গুরুতর হয়ে উঠেছিল। ভর্তি হওয়ার কয়েকদিন পর সুব্রতবাবুকে বাইপ্যাপ সাপোর্ট দিতে হচ্ছিল। এদিন বিকেল থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত জীবনকে গুডবাই জানালেন। এই ঘটনায় বিধ্বস্ত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। রাজ্যের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে বাড়ির পুজোর মধ্যেও সন্ধ্যা থেকেই তাঁর খোঁজখবর নিচ্ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি সুব্রত বাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর জানতে পেরেই ন’টা নাগাদ এসএসকেএমে পৌঁছান তৃণমূল নেত্রী৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসেরা৷

এই দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনে অনেক দুর্যোগ দেখেছি। কিন্তু সুব্রতদার মৃত্যুটা আমার কাছে ভীষণ-ভীষণ বড় দুর্যোগ। সুব্রতদার মতো মানুষ, এত হাসিখুশি মানুষ, এত কর্মঠ মানুষ, পার্টি অন্ত প্রাণ, বিধানসভা অন্ত প্রাণ – আর হবে কিনা, সন্দেহ আছে। আমি গোয়া থেকে ফিরেই হাসপাতালে আসি। সেদিনও আমার সঙ্গে কথা হল। হাসল। বলল, আমি আবার জেলায় জেলায় যাব। আজ সন্ধ্যায় আমার বাড়ির কালীপুজোয় গিয়েছিলেন এখানকার প্রিন্সিপাল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম। বললেন যে এখন ভালো আছেন, কাল ছেড়ে দেওয়া হবে। তারমধ্যে বিরাট হার্ট অ্যাটাক হল। চিকিৎসকরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেননি।’

এসএসকেএমের বাইরে ফিরহাদ হাকিম জানান, ধমনীতে স্টেন্ট বসানোর পর ভালো ছিলেন সুব্রত। কিন্তু দীপাবলির রাতে হাসপাতালের বাথরুম থেকে বেরনোর পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কিছুক্ষণ পরই আবারও ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়। কিন্তু পরপর তিনি দুটি হৃদরোগের ধকল নিতে পারেনি। রাত ৯ টা ২২ মিনিটে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। ফিরহাদ আরো বলেন, ‘মমতাদি আসতে আসতে পুরো ভেঙে পড়েছিলেন। মমতাদি বলছিলেন, জীবনে অনেক ঝড়ঝাপটার মুখে পড়েছি। কিন্তু এরকম পরিস্থিতির মুখে কখনও পড়িনি।’

Related Articles

Back to top button