নিউজপলিটিক্সরাজ্য

লম্বা ছুটি কাটাতে দিল্লি যাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি কাশ্মীর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দিলীপ ঘোষের



রাজধানী দিল্লিতে লম্বা ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বুধবার সকালে ৬টার ফ্লাইটে করে রাজধানীর উদ্দেশ্য উঠে গেলেন দিলীপ বাবু। এই যাত্রায় তিনি শুধুমাত্র যায় সংসদীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তা কিন্তু নয় বরং তিনি কাশ্মীর যাবেন বলেও জানা যাচ্ছে। সকালে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে দিলীপ ঘোষ বললেন, “লম্বা ছুটি কাটাতে যাচ্ছি।” এখনো পর্যন্ত দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা না হলেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমরা জানতে পারব দিলীপ ঘোষের এই দিল্লি যাত্রা শুধুমাত্র কি ছুটি কাটানোর নাকি কারো সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

তবে জানা যাচ্ছে একেবারে সংসদ অধিবেশনের পরে আবারো রাজ্যে আসবেন দিলীপ ঘোষ। তবে বিজেপি মঙ্গলে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছিল দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে দিলীপ ঘোষের। সেই উদ্দেশ্যেই কি এই দিল্লি যাত্রা? সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না কারণ বিজেপি সূত্রের খবর এই দিল্লি যাত্রায় নাকি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডার সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিছুদিন আগেও দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন দিলীপ ঘোষ।

সেই বৈঠকে দীলিপবাবু সরাসরি উত্থাপন করেছিলেন নতুন নেতাদের পাশাপাশি বিজেপির আদি এবং পুরনো নেতাদের যেন সম্মান দেওয়া হয়। জেপি নাড্ডা নিজেও এই বিষয়টি সমর্থন করেছিলেন। এর ফলে দীলিপবাবু বর্তমানে রাজ্য বিজেপির আরও শক্তিশালী একটি জায়গায় চলে এলেন। অন্যদিকে সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্য বিজেপি তে একাধিক রদবদল হতে পারে। এই বছর নভেম্বর মাসে মেয়াদ শেষ হচ্ছে দিলীপ ঘোষের। সম্ভবত নভেম্বর মাসের পর থেকে তাকে আমরা আর বিজেপি রাজ্য সভাপতি হিসেবে দেখব না। বিজেপির পাশাপাশি বদলি হয়েছে আরএসএস এর ক্ষেত্রেও। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একটি বড় রদবদলের পরে পূর্ব ভারতের প্রচারক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রমাপদ পাল, যিনি আদতে কিন্তু দিলীপ ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে আবার দিলীপ ঘোষ এবং জেপি নড্ডা বৈঠক করে ঠিক করেছেন, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কোন কিছুতে তৃণমূল থেকে আসা নতুন নেতাদের বসানো যাবে না।

দিলীপ ঘোষের পরামর্শ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি গ্রহণ করে জানিয়েছেন তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের বর্তমানে এতটা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো যাবে না। প্রথমেই দলের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখিয়ে এবং দলের নির্দেশমতো কাজ করতে হবে। যে সমস্ত তৃণমূল নেতারা গেরুয়া শিবিরে যোগদান করছেন তারা যদি দলের নির্দেশ মত নীতি আদর্শ মেনে কাজ করতে পারেন তবে তাদেরকে একটি ভালো জায়গায় পদ দেওয়া যাবে। নতুবা পুরনো নেতাদের হাতেই এখনো পর্যন্ত দলের সম্পূর্ণ দায়ভার থাকবে বলে কার্যত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারী এবং মিহির গোস্বামী কে কিছুটা আলাদা ভাবে দেখছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে বিজেপির একটি বড় মুখ হয়ে উঠেছেন এবং বিজেপির হয়ে ভালো কাজ করছেন বলেই অনেকে মনে করছেন। কিন্তু দিলীপ ঘোষের নতুন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে পালিত হবে বলেও রাজনৈতিক মহলের মতামত। ইতিমধ্যেই নাকি জেলায় জেলায় কার্যকারিনী বৈঠকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনই সবকিছু জানিয়ে দিতে নারাজ দিলীপ ঘোষ।

Related Articles

Back to top button