জন্মের প্রথম সরকারি পরিচয়পত্র হলো জন্ম সনদ। শিক্ষা থেকে চাকরি, ব্যাংক থেকে পাসপোর্ট— প্রায় প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবাতেই এই নথির প্রয়োজন হয়। আগে যেখানে অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতে হত, এখন সরকারের উদ্যোগে জন্ম সনদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে করা সম্ভব হয়েছে। ফলে নাগরিকদের সময় ও শ্রম দুই-ই বাঁচছে।
জন্ম সনদ কেন জরুরি?
জন্ম সনদ কোনও ব্যক্তির জন্মতারিখ, জন্মস্থান ও পিতামাতার নাম সরকারি ভাবে প্রমাণ করে। এই নথি ছাড়া স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। সরকারি চাকরির আবেদন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি, এমনকি বিদেশ ভ্রমণ বা পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও জন্ম সনদ অপরিহার্য।
সব খবর মোবাইলে পেতে 👉🏻
Join Nowকবে করতে হবে জন্ম নিবন্ধন?
আইন অনুযায়ী শিশুর জন্মের ২১ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। এই সময়সীমার মধ্যে করলে কোনও খরচ লাগে না। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলে সামান্য ফি দিয়ে নিবন্ধন করা যায়।
জন্ম সনদ থাকার সুবিধা
স্কুল ও কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ হয়।
সরকারি সুবিধা ও স্কিম পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করে।
পাসপোর্ট, ভিসা বা বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক।
ব্যাংকিং পরিষেবা বা চাকরির ক্ষেত্রে পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
কোন কোন নথি লাগবে?
জন্ম সনদের জন্য আবেদন করতে কয়েকটি নথি প্রয়োজন—
মা ও বাবার আধার কার্ড ও ভোটার আইডি
হাসপাতাল কর্তৃক দেওয়া জন্ম সংক্রান্ত প্রমাণপত্র
ঠিকানার প্রমাণপত্র
শিশুর বাড়িতে জন্ম হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদপত্র
সক্রিয় মোবাইল নম্বর
কারা আবেদন করতে পারবেন?
ভারতের যে কোনও নাগরিক জন্ম সনদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। জন্মের ২১ দিনের মধ্যে করলে এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। সময়সীমা পার হয়ে গেলে ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
কিভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন?
জন্ম সনদের আবেদন অনলাইনে করতে হলে সরকারি পোর্টালে গিয়ে প্রথমে General Public Sign Up করতে হবে। এরপর লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে ফর্ম পূরণ করতে হবে। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করার পর আবেদন জমা দিতে হবে। ২১ দিন পর আবেদন করলে অনলাইনে ফি জমা করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যাবে, যার সাহায্যে আবেদনটির স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা সম্ভব।